প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন অথরিটির (পিএলও) প্রবাদপ্রতিম নেতা ইয়াসির আরাফাত ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সবসময় ‘আমার বড় বোন’ বলে সম্বোধন করতেন। ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত নন-অ্যালাইনমেন্ট মুভমেন্টের (ন্যাম) শীর্ষ সম্মেলনে তিনি ‘রাষ্ট্রনেতা’ হিসেবে উদ্বোধনী ভাষণ দিয়েছিলেন।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, প্রত্যেকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকারকে সমর্থন করেছেন। ভারতের জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃত মোহনদাস গান্ধীও ফিলিস্তিনের প্রতি আন্তরিক ছিলেন। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর প্রতি বছর শত শত ফিলিস্তিনি ছাত্র দেশটির মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশোনা করতে আসত। ভারতের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনে ত্রাণ, রসদ ও সাহায্য পাঠানো হতো নিয়মিত। এই সমর্থনের ধারাই পুরো আশির দশক পর্যন্ত বজায় ছিল।
ভারত সর্বদা উপনিবেশবাদবিরোধী নীতি নিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রতি ভারতের সহমর্মিতা ছিল তার নীতিগত অবস্থানের বড় দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতা পাওয়া মাত্রই ভারত জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে ‘পার্টিশন প্ল্যানে’ বিভক্ত করার প্রস্তাবে বিরোধ জানিয়েছিল এবং ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্তিরও প্রতিবাদ করেছিল।