দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরশহরের পশ্চিম কাটাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোছা. নূর বানু (৫৬) দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে নিজের জমির দখল ফিরে পেয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ছামিউল ইসলাম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমির দখল হস্তান্তর করেন। এ সময় দখলে থাকা ব্যক্তি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দখল হস্তান্তর কার্যক্রমে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আবু দাইয়েন, মিউটেশন কাম-সার্টিফিকেট সহকারী মনোজ কুমার শীল এবং সার্টিফিকেট পেশকার মো. শামীম ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জমির দখল ফিরে পেতে মোছা. নূর বানু বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয় কিশোর নাগের আমলী আদালতে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাজিরা দিতে গেলে ১ নম্বর আসামি মো. কামাল চৌধুরীর জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেল হাজতে পাঠান আদালত।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনায় আসামিদের জমির ওপর কোনো বৈধ দাবি পাওয়া যায়নি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নালিশি জমির দখল বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অঙ্গীকারনামার শর্ত অনুযায়ী হাজতী আসামিকে এক হাজার টাকার বন্ডে নিয়োজিত আইনজীবী ও একজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির জিম্মায় পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করা হয়।
রায় কার্যকরের পর নূর বানু বলেন, “আমরা আমাদের জায়গা বুঝে পেয়েছি। আদালতের রায়ে আমরা খুশি।”
পরে মোছা. পরী বানু ও মো. জয়নাল আবেদীন জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মাসুদ রানার কাছে বায়নাকৃত দলিলে উল্লেখিত তফসিল অনুযায়ী জমি বুঝিয়ে দেন।