পবিত্র মাহে রমজানের সহমর্মিতা, ত্যাগ ও মানবিকতার শিক্ষা ধারণ করে ছৈলাবুনিয়ায় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক ও মানবিক সংগঠন হিলফুল ফুজুল স্বপ্নযাত্রা সংগঠন। প্রথমবারের মতো আয়োজিত তাদের ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি স্থানীয় মানুষের মাঝে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সংগঠনের মূলমন্ত্র—“ঐক্য, সততা ও মানবতা আমাদের শক্তি”—কে সামনে রেখে ২০২৬ সালে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সমাজের নিম্নআয়ের ও অসহায় রোজাদারদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা এবং মানবিক অনুদানের মাধ্যমে মোট ২০ হাজার ৩০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়। এই অর্থ দিয়ে অন্তত ২০টি পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রায় এক হাজার টাকা মূল্যের ইফতার প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়। প্যাকেজে ছিল খেজুর, মুড়ি, চিড়া, ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা, মুসুরির ডাল, আলু, পিয়াজ, ট্যাং পাউডার, বেসনসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং একটি ব্যাগ।
উপকারভোগীদের মধ্যে এলাকার অসহায় নারী-পুরুষ ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো উল্লেখযোগ্য।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুদান দিয়ে কর্মসূচিকে সফল করেছেন।
আয়োজকরা সকল অনুদানদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মহান আল্লাহ যেন তাদের দান কবুল করেন সেই দোয়া করেন।
সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোঃ শাহীদ তানভীর বলেন, পবিত্র রমজান দান-সদকার জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ মাস। তিনি উল্লেখ করেন, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।” (জামি আত‑তিরমিযি, হাদিস: ৮০৭)। এই হাদিস থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে সংগঠনটি মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।
সংগঠনের সহকারী অর্থ সম্পাদক মোঃ সাগর হোসেন জানান, এটি তাদের প্রথম উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এদিকে সংগঠনের সভাপতির বক্তব্যে বলা হয়, পবিত্র রমজান আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে সংগঠন গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। তিনি সকল সদস্য, অনুদানদাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ঐক্য, সততা ও মানবতার মূল্যবোধ ধারণ করেই সংগঠনটি ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চায়।
মানবতার এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংগঠনের সদস্যরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও সমাজের অসহায় মানুষের পাশে থেকে আরও বৃহৎ পরিসরে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।