মোঃ সোহানুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলাধীন ১০ নম্বর বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামে রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৩০টিরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক তালগাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব তালগাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই করত না, বরং গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। প্রচণ্ড গরমে পথচারী ও কৃষিশ্রমিকদের জন্য গাছগুলো ছিল বিশ্রামের প্রধান আশ্রয়।
জানা গেছে, প্রায় ৪৫ বছর আগে গ্রামের বাসিন্দা মরহুম আব্দুর রহিম উদ্দিন নিজের উদ্যোগে জমির ধারে রাস্তার পাশে তালগাছগুলো রোপণ করেন। জীবদ্দশায় তিনি গাছগুলোর পরিচর্যায় বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং তালগাছের দেখভাল ছিল তার নিত্যদিনের কাজের অংশ। প্রায় ১৫–১৬ বছর আগে তার মৃত্যু হয়।
এলাকাবাসী জানান, মাঠের কাজ শেষে ফেরার পথে কৃষক ও কৃষিজীবী শ্রমিকরা এই তালগাছগুলোর ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিতেন। গ্রীষ্মকালে তীব্র তাপদাহে গাছগুলো পথচারীদের জন্য একমাত্র স্বস্তির জায়গা ছিল।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মরহুম আব্দুর রহিম উদ্দিন বেঁচে থাকলে কখনোই গাছগুলো কাটতে দিতেন না। তিনি বলতেন, রাস্তা দরকার হলে অন্য পাশ দিয়ে করুক, কিন্তু গাছ যেন না কাটে।”
পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছে, উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। তারা আশঙ্কা করছেন, কাটা গাছগুলোর পরিবর্তে নতুন তালগাছ রোপণ করা হলেও এমন ছায়াময় ও ফলবান সারি গড়ে উঠতে কয়েক দশক সময় লেগে যাবে।