
মোঃ মোস্তাইন বিল্লাহ, দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। ভুলক্রমে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে প্রাণ হারিয়েছেন দুই বিয়াই বানিয়াপাড়া গ্রামের কানকু মিয়া (৪৫) এবং পোড়াভিটা গ্রামের কোম্পানি ওরফে কমল মিয়া (৫০)। রবিবার রাতের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারে, দুই গ্রামে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে ব্যক্তিগত কাজে কমল মিয়া বিয়াই কানকু মিয়ার বাড়িতে আসেন। সাথে করে তিনি ক্ষেতের ইঁদুর দমনের জন্য ইঁদুরনাশক গ্যাস ট্যাবলেট কিনে আনেন। দুপুরে হঠাৎ গ্যাসট্রিকের ব্যথা অনুভব করলে তিনি বিয়াইকে জানান। এসময় ভুলবশত তার পকেটে থাকা ইঁদুরনাশক ট্যাবলেটকে ওষুধ ভেবে দুই বিয়াই দুটি করে ট্যাবলেট সেবন করেন।
ট্যাবলেট সেবনের কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের বুকে জ্বালা ও বমি শুরু হয়। দেওয়ানগঞ্জে নেওয়ার পথে কানকু মিয়ার শ্বশুরবাড়ির কাছে পৌঁছালে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। অন্যদিকে কমল মিয়ার অবস্থাও অবনতি হলে সবুজপুর এলাকায় তিনি বমি করতে করতে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে পরিবারের লোকজনকে ফোন করলে জানা যায়, ট্যাবলেটগুলো গ্যাসের নয়, বরং ইঁদুরনাশক গ্যাস ট্যাবলেট। বিষয়টি বুঝতে পারার পরপরই দু’জনকে দ্রুত দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানালে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই কানকু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন। পরে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার বিয়াই কমল মিয়া।
অকস্মাৎ দুই পরিবারের প্রধান দুই অভিভাবকের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ স্বজনরা। স্ত্রী-সন্তানদের কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা এলাকা। গ্রামবাসীরা বলেন,
“এভাবে ভুলে বিষ খেয়ে দুইজন মানুষ চলে যাবে—এটা কেউ কল্পনাও করেনি। গ্যাস ট্যাবলেটের দুর্গন্ধ আছে, কিন্তু অতি সহজ-সরল হওয়ায় তারা হয়তো বুঝতেই পারেননি এগুলো প্রাণঘাতী।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বাড়িতে বিষাক্ত দ্রব্য অসতর্কভাবে রাখার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তারা স্থানীয়দেরকে বিষাক্ত ও বিপজ্জনক সামগ্রী আলাদা স্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
হঠাৎ দুই প্রাণের বিদায়ে শোকের ছায়ায় ডুবেছে বানিয়াপাড়া ও পোড়াভিটা গ্রাম। কান্নায় ভারী হয়ে আছে প্রতিটি ঘর। শোকাহত দুই পরিবারকে সান্ত্বনা ও সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,কোন পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। উভয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফনের করার জন্য আবেন করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিয়মিত অপমৃত্যুর মামলা হবে।
Reporter Name 















