০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারাগারে দুই খুনীর প্রেম, বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জামিন

কারাগারে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমের পরিণতি হতে যাচ্ছে বিয়ে। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে ঘটছে এমন ঘটনা। এমনকি সেই বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জামিন দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে চাঞ্চল্যকর দুটি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক নারী ও এক পুরুষ আসামি বিয়ে করার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। রাজস্থান হাইকোর্ট তাদের ১৫ দিনের জন্য প্যারোল মঞ্জুর করেছেন।

মুক্তি পাওয়া দুজন হলেন মডেল প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং তার বাগদত্তা হনুমান প্রসাদ। শুক্রবার রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বড়োদামেভ এলাকায় আজ তাদের বিয়ের কথা রয়েছে। তারা দুজনই বর্তমানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।প্রিয়া শেঠ ২০১৮ সালে ডেটিং অ্যাপে পরিচিত এক যুবককে হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা ভোগ করছেন। ছয় মাস আগে একই জেলে হনুমান প্রসাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেখান থেকেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ২ মে প্রিয়া শেঠ টিন্ডারে পরিচিত দুষ্যন্ত শর্মাকে জয়পুরের বাজাজ নগরের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করার কথা ছিল। প্রিয়া শেঠের তৎকালীন প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরার ঋণ শোধ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। প্রিয়া শেঠ দুষ্যন্তের বাবার কাছে ১০ লাখ রুপি মুক্তিপণ দাবি করেন। তার বাবা তিন লাখ রুপি জোগাড় করে পাঠান। তবে দুষ্যন্তকে ছেড়ে দিলে পুলিশে খবর দিতে পারে এই আশঙ্কায় প্রিয়া শেঠ, দীক্ষান্ত কামরা ও তাদের সহযোগী লক্ষ্য ওয়ালিয়া তাকে হত্যা করে।

পরে মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে আমের পাহাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরিচয় গোপন করতে মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয় এবং আলামত নষ্ট করতে ফ্ল্যাট পরিষ্কার করা হয়। ৩ মে রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে, হনুমান প্রসাদ তার প্রেমিকার স্বামী ও চার শিশুকে হত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত। তার প্রেমিকা সন্তোষ বয়সে তার চেয়ে প্রায় ১০ বছরের বড় ছিলেন এবং আলওয়ারে তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে সন্তোষ হনুমান প্রসাদকে তার বাড়িতে ডেকে পাঠান। সেখানে পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে সন্তোষের স্বামী বনওয়ারি লালকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় সন্তোষের তিন সন্তান ও এক ভাগনে জেগে ওঠে এবং ঘটনা দেখে ফেলে।

ধরা পড়ার আশঙ্কায় সন্তোষ শিশুদেরও হত্যার নির্দেশ দেন। হনুমান প্রসাদ সেই নির্দেশ অনুযায়ী চার শিশুকেও হত্যা করেন। ওই ঘটনায় এক রাতে পাঁচজন নিহত হন। এটি আলওয়ারের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

এনডিটিভি জানিয়েছে, দুই আসামির আবেদনের পর রাজস্থান হাইকোর্ট মানবিক বিবেচনায় তাদের ১৫ দিনের প্যারোলে জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে তাদের আবার কারাগারে ফিরে যেতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ কলেজসমূহের অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় মহানগর ল কলেজের মানববন্ধন

কারাগারে দুই খুনীর প্রেম, বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জামিন

Update Time : ০৬:৩২:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

কারাগারে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমের পরিণতি হতে যাচ্ছে বিয়ে। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে ঘটছে এমন ঘটনা। এমনকি সেই বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জামিন দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে চাঞ্চল্যকর দুটি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক নারী ও এক পুরুষ আসামি বিয়ে করার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। রাজস্থান হাইকোর্ট তাদের ১৫ দিনের জন্য প্যারোল মঞ্জুর করেছেন।

মুক্তি পাওয়া দুজন হলেন মডেল প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং তার বাগদত্তা হনুমান প্রসাদ। শুক্রবার রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বড়োদামেভ এলাকায় আজ তাদের বিয়ের কথা রয়েছে। তারা দুজনই বর্তমানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।প্রিয়া শেঠ ২০১৮ সালে ডেটিং অ্যাপে পরিচিত এক যুবককে হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে সাজা ভোগ করছেন। ছয় মাস আগে একই জেলে হনুমান প্রসাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেখান থেকেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ২ মে প্রিয়া শেঠ টিন্ডারে পরিচিত দুষ্যন্ত শর্মাকে জয়পুরের বাজাজ নগরের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করার কথা ছিল। প্রিয়া শেঠের তৎকালীন প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরার ঋণ শোধ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। প্রিয়া শেঠ দুষ্যন্তের বাবার কাছে ১০ লাখ রুপি মুক্তিপণ দাবি করেন। তার বাবা তিন লাখ রুপি জোগাড় করে পাঠান। তবে দুষ্যন্তকে ছেড়ে দিলে পুলিশে খবর দিতে পারে এই আশঙ্কায় প্রিয়া শেঠ, দীক্ষান্ত কামরা ও তাদের সহযোগী লক্ষ্য ওয়ালিয়া তাকে হত্যা করে।

পরে মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে আমের পাহাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরিচয় গোপন করতে মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয় এবং আলামত নষ্ট করতে ফ্ল্যাট পরিষ্কার করা হয়। ৩ মে রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে, হনুমান প্রসাদ তার প্রেমিকার স্বামী ও চার শিশুকে হত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত। তার প্রেমিকা সন্তোষ বয়সে তার চেয়ে প্রায় ১০ বছরের বড় ছিলেন এবং আলওয়ারে তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে সন্তোষ হনুমান প্রসাদকে তার বাড়িতে ডেকে পাঠান। সেখানে পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে সন্তোষের স্বামী বনওয়ারি লালকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় সন্তোষের তিন সন্তান ও এক ভাগনে জেগে ওঠে এবং ঘটনা দেখে ফেলে।

ধরা পড়ার আশঙ্কায় সন্তোষ শিশুদেরও হত্যার নির্দেশ দেন। হনুমান প্রসাদ সেই নির্দেশ অনুযায়ী চার শিশুকেও হত্যা করেন। ওই ঘটনায় এক রাতে পাঁচজন নিহত হন। এটি আলওয়ারের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

এনডিটিভি জানিয়েছে, দুই আসামির আবেদনের পর রাজস্থান হাইকোর্ট মানবিক বিবেচনায় তাদের ১৫ দিনের প্যারোলে জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে তাদের আবার কারাগারে ফিরে যেতে হবে।