০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপালী ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, অপসারণ দাবি কর্মকর্তাদের

রাষ্ট্রায়ত্ত -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) -এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক বৈষম্য, আর্থিক অনিয়ম এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন ব্যাংকটির একদল কর্মকর্তা। গত ৪ জুন জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে তার অপসারণ, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, বর্তমান এমডির নেতৃত্বে ব্যাংকের প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং ভিন্নমতের কর্মকর্তাদের দূরবর্তী শাখায় বদলির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলা নং-০৬ এবং সিআর মামলা নং-৬৩/২৫-এর এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম বর্তমানে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন -এর সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়ন করেছেন। এর ফলে প্রশাসনে পক্ষপাতমূলক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং ভিন্ন মতাদর্শের কর্মকর্তারা পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

স্মারকলিপি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক প্রায় ৫৮৭ কোটি টাকার লোকসানে পড়েছে। দীর্ঘদিন লাভজনক অবস্থানে থাকা ব্যাংকটির এই আর্থিক অবনতির জন্য বর্তমান ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা, দুর্বল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অনিয়মকে দায়ী করেছেন অভিযোগকারীরা।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়, মানি লন্ডারিং মামলা ও অডিট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও গুলশান করপোরেট শাখার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, রূপালী সদন করপোরেট শাখার সাবেক প্রধান বিধিবহির্ভূতভাবে ২৪টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। পাশাপাশি এসএমই বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বলা হয়, সাবেক এমডির এপিএস শফিকুর রহমানকে ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) এবং মাহমুদুল হাসান টুটুলকে এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মাধ্যমে পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়নের কারণে পদোন্নতি ও বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

এদিকে ব্যাংকের ক্রীড়া ও প্রশিক্ষণ খাতেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫ ও ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত না হলেও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ব্যয়ের নিরপেক্ষ নিরীক্ষারও দাবি জানানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ কলেজসমূহের অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় মহানগর ল কলেজের মানববন্ধন

রূপালী ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, অপসারণ দাবি কর্মকর্তাদের

Update Time : ১০:১৫:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) -এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক বৈষম্য, আর্থিক অনিয়ম এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন ব্যাংকটির একদল কর্মকর্তা। গত ৪ জুন জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে তার অপসারণ, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, বর্তমান এমডির নেতৃত্বে ব্যাংকের প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং ভিন্নমতের কর্মকর্তাদের দূরবর্তী শাখায় বদলির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলা নং-০৬ এবং সিআর মামলা নং-৬৩/২৫-এর এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম বর্তমানে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন -এর সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়ন করেছেন। এর ফলে প্রশাসনে পক্ষপাতমূলক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং ভিন্ন মতাদর্শের কর্মকর্তারা পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

স্মারকলিপি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক প্রায় ৫৮৭ কোটি টাকার লোকসানে পড়েছে। দীর্ঘদিন লাভজনক অবস্থানে থাকা ব্যাংকটির এই আর্থিক অবনতির জন্য বর্তমান ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা, দুর্বল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অনিয়মকে দায়ী করেছেন অভিযোগকারীরা।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়, মানি লন্ডারিং মামলা ও অডিট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও গুলশান করপোরেট শাখার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, রূপালী সদন করপোরেট শাখার সাবেক প্রধান বিধিবহির্ভূতভাবে ২৪টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। পাশাপাশি এসএমই বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বলা হয়, সাবেক এমডির এপিএস শফিকুর রহমানকে ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) এবং মাহমুদুল হাসান টুটুলকে এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মাধ্যমে পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়নের কারণে পদোন্নতি ও বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

এদিকে ব্যাংকের ক্রীড়া ও প্রশিক্ষণ খাতেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫ ও ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত না হলেও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ব্যয়ের নিরপেক্ষ নিরীক্ষারও দাবি জানানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।