০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে তহশিলদারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ২২ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এলুয়াড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী মো. মাসুদ রানা, মাহমুদুল হক, হাফেজ মো. রায়হান, সোহানুর রহমানসহ অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, তহশিলদার জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছেন। ভূমি অফিসে সেবা নিতে গেলে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা একটি নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগকারীরা জানান, গত ৮ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে তাঁরা লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগে বলা হয়েছে

• এলুয়াড়ী ইউনিয়নের ২৯৮ খতিয়ানের ৩৩৮ দাগে মূল হোল্ডিংয়ে জমি না থাকলেও জাল খতিয়ান তৈরি করে ৬ শতাংশ জমি অন্যের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে।

• উষাহার মৌজার ৩০৩ খতিয়ান ও হোল্ডিংয়ে ১৪৩০ সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধিত থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বকেয়া দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পর ৫১৬ টাকার রশিদ প্রদান করা হয়।

• উত্তর জগন্নাথপুর মৌজার ১১৮ হোল্ডিংয়ে ১৪৩০ সন পর্যন্ত খাজনা দেওয়া থাকলেও বকেয়া দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া এলুয়াড়ী মৌজার বিভিন্ন খতিয়ানে আংশিক খাজনা পরিশোধের তথ্য পরিবর্তন করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত ওই কর্মকর্তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তহশিলদার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে অভিযুক্ত করে, তা সত্য নয়। মোবাইল ব্যাংকের লেনদেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, “আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি এখনও জানি না। অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Aminul Islam

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ কলেজসমূহের অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় মহানগর ল কলেজের মানববন্ধন

ফুলবাড়ীতে তহশিলদারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : ১১:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এলুয়াড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী মো. মাসুদ রানা, মাহমুদুল হক, হাফেজ মো. রায়হান, সোহানুর রহমানসহ অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, তহশিলদার জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছেন। ভূমি অফিসে সেবা নিতে গেলে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা একটি নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগকারীরা জানান, গত ৮ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে তাঁরা লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগে বলা হয়েছে

• এলুয়াড়ী ইউনিয়নের ২৯৮ খতিয়ানের ৩৩৮ দাগে মূল হোল্ডিংয়ে জমি না থাকলেও জাল খতিয়ান তৈরি করে ৬ শতাংশ জমি অন্যের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে।

• উষাহার মৌজার ৩০৩ খতিয়ান ও হোল্ডিংয়ে ১৪৩০ সন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধিত থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বকেয়া দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার পর ৫১৬ টাকার রশিদ প্রদান করা হয়।

• উত্তর জগন্নাথপুর মৌজার ১১৮ হোল্ডিংয়ে ১৪৩০ সন পর্যন্ত খাজনা দেওয়া থাকলেও বকেয়া দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া এলুয়াড়ী মৌজার বিভিন্ন খতিয়ানে আংশিক খাজনা পরিশোধের তথ্য পরিবর্তন করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত ওই কর্মকর্তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তহশিলদার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে অভিযুক্ত করে, তা সত্য নয়। মোবাইল ব্যাংকের লেনদেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, “আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি এখনও জানি না। অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”