০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজ নিবন্ধনে চরম হতাশা: সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভরসা হারাচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬৭ Time View

বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হজ নিবন্ধনের পরিস্থিতি সবচেয়ে হতাশাজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আস্থাহীনতা, অতিরিক্ত খরচ এবং প্রশাসনিক জটিলতা—সব মিলিয়ে হজ নিবন্ধনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

প্রতি বছর মোট হজযাত্রীর মধ্যে ১০ শতাংশের কম সরকারি কোটা বরাদ্দ থাকলেও, এবার সেই সামান্য অংশটুকুও পূরণ করতে পারেনি ধর্ম মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময় বাড়ানো সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের কাজ শুরু হয় গত ২৭ জুলাই। প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৭৩ হাজার ৪১৬ জন। যা মোট কোটার ৫৭ শতাংশ। অথচ সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন।

১৬ অক্টোবর ছিল নিবন্ধনের শেষ দিন। কিন্তু হজে যেতে আগ্রহী অনেক মুসলমান অর্থনৈতিক চাপ ও অতিরিক্ত বিমান ভাড়ার কারণে নিবন্ধন করতে পারেননি। ফলে প্রায় ৫৩ হাজার ৭৮২ জনের কোটা এখনো ফাঁকা রয়েছে—যা মোটের প্রায় ৪৩ শতাংশ।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার আর সময় বাড়ানো হবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, হজ প্যাকেজের উচ্চমূল্যই মূলত নিবন্ধন সংকটের অন্যতম কারণ। সরকারি প্যাকেজে স্বাভাবিক বিমান ভাড়ার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকে অর্থ আটকে থাকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও পড়েছে।

বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হজে গিয়েছিলেন ৮৫ হাজার ২৫৭ জন, ২০২৩ সালে এক লাখ ২২ হাজার ৫৫৮ জন, ২০২২ সালে ৬০ হাজার ১৪৬ জন (যা করোনার সময় সীমিত ছিল), ২০১৯ সালে এক লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন এবং ২০১৮ সালে এক লাখ ২৭ হাজার ২৯৮ জন।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন মাত্র চার হাজার ১০২ জন, বাকি ৬৯ হাজার ৩১৪ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। আগামী ২৬ মে (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) অনুষ্ঠিত হতে পারে এবারের হজ।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সরকার তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করে—প্যাকেজ-১ (বিশেষ) ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা, প্যাকেজ-২ পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা এবং প্যাকেজ-৩ চার লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। খাবার খরচ এর বাইরে। অন্যদিকে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) তাদের সর্বনিম্ন প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা।

হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, “ওমরাহ পালনের প্রবণতা বাড়ায় অনেকে এখন হজে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অনেকের ধারণা, ওমরাহ করলেই হজের দায়িত্ব শেষ হয়—এই ভুল ধারণা, অর্থ সংকট ও রাজনৈতিক প্রভাবই হজ নিবন্ধন কমার কারণ।”

আল-কুতুব হজ ট্রাভেলসের মালিক হাবিবুল্লাহ মুহাম্মাদ কুতুবুদ্দীন বলেন, “এবার প্রাক ও প্রাথমিক নিবন্ধনের অগ্রিম টাকা তিন লাখ ৮০ হাজার ধরা হয়েছে—যা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। এতে অনেকেই পিছিয়ে গেছেন। এমনকি হজযাত্রীদের বিমানের ভাড়ার টাকাও অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত হজযাত্রীদের নিরুৎসাহিত করেছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনাকে বিতর্কিত করছেন, যার ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ কলেজসমূহের অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় মহানগর ল কলেজের মানববন্ধন

হজ নিবন্ধনে চরম হতাশা: সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভরসা হারাচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা

Update Time : ০৫:২৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হজ নিবন্ধনের পরিস্থিতি সবচেয়ে হতাশাজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আস্থাহীনতা, অতিরিক্ত খরচ এবং প্রশাসনিক জটিলতা—সব মিলিয়ে হজ নিবন্ধনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

প্রতি বছর মোট হজযাত্রীর মধ্যে ১০ শতাংশের কম সরকারি কোটা বরাদ্দ থাকলেও, এবার সেই সামান্য অংশটুকুও পূরণ করতে পারেনি ধর্ম মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময় বাড়ানো সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের কাজ শুরু হয় গত ২৭ জুলাই। প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৭৩ হাজার ৪১৬ জন। যা মোট কোটার ৫৭ শতাংশ। অথচ সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন।

১৬ অক্টোবর ছিল নিবন্ধনের শেষ দিন। কিন্তু হজে যেতে আগ্রহী অনেক মুসলমান অর্থনৈতিক চাপ ও অতিরিক্ত বিমান ভাড়ার কারণে নিবন্ধন করতে পারেননি। ফলে প্রায় ৫৩ হাজার ৭৮২ জনের কোটা এখনো ফাঁকা রয়েছে—যা মোটের প্রায় ৪৩ শতাংশ।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার আর সময় বাড়ানো হবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, হজ প্যাকেজের উচ্চমূল্যই মূলত নিবন্ধন সংকটের অন্যতম কারণ। সরকারি প্যাকেজে স্বাভাবিক বিমান ভাড়ার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকে অর্থ আটকে থাকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও পড়েছে।

বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হজে গিয়েছিলেন ৮৫ হাজার ২৫৭ জন, ২০২৩ সালে এক লাখ ২২ হাজার ৫৫৮ জন, ২০২২ সালে ৬০ হাজার ১৪৬ জন (যা করোনার সময় সীমিত ছিল), ২০১৯ সালে এক লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন এবং ২০১৮ সালে এক লাখ ২৭ হাজার ২৯৮ জন।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন মাত্র চার হাজার ১০২ জন, বাকি ৬৯ হাজার ৩১৪ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। আগামী ২৬ মে (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) অনুষ্ঠিত হতে পারে এবারের হজ।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সরকার তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করে—প্যাকেজ-১ (বিশেষ) ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা, প্যাকেজ-২ পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা এবং প্যাকেজ-৩ চার লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। খাবার খরচ এর বাইরে। অন্যদিকে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) তাদের সর্বনিম্ন প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা।

হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, “ওমরাহ পালনের প্রবণতা বাড়ায় অনেকে এখন হজে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অনেকের ধারণা, ওমরাহ করলেই হজের দায়িত্ব শেষ হয়—এই ভুল ধারণা, অর্থ সংকট ও রাজনৈতিক প্রভাবই হজ নিবন্ধন কমার কারণ।”

আল-কুতুব হজ ট্রাভেলসের মালিক হাবিবুল্লাহ মুহাম্মাদ কুতুবুদ্দীন বলেন, “এবার প্রাক ও প্রাথমিক নিবন্ধনের অগ্রিম টাকা তিন লাখ ৮০ হাজার ধরা হয়েছে—যা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। এতে অনেকেই পিছিয়ে গেছেন। এমনকি হজযাত্রীদের বিমানের ভাড়ার টাকাও অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত হজযাত্রীদের নিরুৎসাহিত করেছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি হজ ব্যবস্থাপনাকে বিতর্কিত করছেন, যার ফলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”