০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিড়িতে সুখ টানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইতে বলা প্রার্থীকে শোকজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪১ Time View

ঝালকাঠির রাজাপুরে ‘বিড়িতে সুখ টানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারে’ বলা ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রেজওয়ানা আফরিন এ নোটিশ দেন।

নোটিশে ফয়জুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনার অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১২ জানুয়ারি সোমবার সশরীরে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধানের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর একজন প্রার্থী হওয়ার পরও কমিটির নিকট প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে গত ৭ জানুয়ারি বুধবার রাতে রাজাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী উঠানবৈঠকে আপনি জনসমক্ষে নিম্নরূপ বক্তব্য প্রদান করেন, “আমার ভাই হয়তো কোনো দিনই ইবাদত করার সুযোগ পান নাই, ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দ্বারে কবুল হয়ে যায়, এমনও হতে পারে পেছনের সব মাফ করে দিয়ে আল্লাহ তাকে ভালো করে দিতে পারে।” বক্তব্যটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়।’নোটিশে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়া সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫-এর উপবিধি (ক) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করে বিধি ১৬-এর উপবিধি (ঙ) এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো বিধি ১৮-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমতাবস্থায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্বাচন কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, তা ১২ জানুয়ারি সশরীরে জেলা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রেজওয়ানা আফরিনের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বক্তব্যটি মিসলিড করা হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাড়িওয়ালা, দাড়ি ছাড়া, বিড়ি বা সিগারেট খান এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইবেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সঠিক সময়ে নোটিশের জবাব দিতে প্রস্তুত।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ কলেজসমূহের অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় মহানগর ল কলেজের মানববন্ধন

বিড়িতে সুখ টানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইতে বলা প্রার্থীকে শোকজ

Update Time : ১১:১৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ঝালকাঠির রাজাপুরে ‘বিড়িতে সুখ টানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারে’ বলা ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রেজওয়ানা আফরিন এ নোটিশ দেন।

নোটিশে ফয়জুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনার অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১২ জানুয়ারি সোমবার সশরীরে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধানের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর একজন প্রার্থী হওয়ার পরও কমিটির নিকট প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপাত্ত পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে গত ৭ জানুয়ারি বুধবার রাতে রাজাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী উঠানবৈঠকে আপনি জনসমক্ষে নিম্নরূপ বক্তব্য প্রদান করেন, “আমার ভাই হয়তো কোনো দিনই ইবাদত করার সুযোগ পান নাই, ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লাহর দ্বারে কবুল হয়ে যায়, এমনও হতে পারে পেছনের সব মাফ করে দিয়ে আল্লাহ তাকে ভালো করে দিতে পারে।” বক্তব্যটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়।’নোটিশে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে বা ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়া সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৫-এর উপবিধি (ক) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করে বিধি ১৬-এর উপবিধি (ঙ) এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো বিধি ১৮-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমতাবস্থায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্বাচন কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, তা ১২ জানুয়ারি সশরীরে জেলা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রেজওয়ানা আফরিনের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বক্তব্যটি মিসলিড করা হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাড়িওয়ালা, দাড়ি ছাড়া, বিড়ি বা সিগারেট খান এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষ করে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি—আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইবেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সঠিক সময়ে নোটিশের জবাব দিতে প্রস্তুত।’