০৭:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬২ Time View

মুসলিম আইনানুযায়ী পুরুষের জন্য ‍দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ছিলো, গুরুত্বর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। কিন্তু সম্প্রতি হাইকোর্টের এক রায়ে পাল্টে যেতে যাচ্ছে বহুদিন ধরে চলে আসা এই রীতি।

এবার স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে,ঠিক এমনই এক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে।

এতদিন প্রচলিত ছিলো, স্ত্রী বা প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে আদালত বলেন, এ বিষয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো অস্তিত্ব নেই।

২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলে ন্যস্ত থাকায় স্ত্রী অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়।

১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে নারীর ক্ষেত্রে ওই সাজা বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে ঠেলে দেওয়া হয় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর। সেক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিলের ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্তে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। তাদের দাবি, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই রিট করা হয়েছিল।

সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, আর্থিক সক্ষমতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রলোভন থেকে বহু পুরুষ একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহার করার ঝুঁকি থাকে। ফলে সমাজে অসাম্য ও পারিবারিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তারা।

এদিকে বিষয়টি এখন আপিল বিভাগে গেলে তা নজরকাড়া আলোচনার জন্ম দেবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ কলেজসমূহের অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় মহানগর ল কলেজের মানববন্ধন

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

Update Time : ০৪:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

মুসলিম আইনানুযায়ী পুরুষের জন্য ‍দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ছিলো, গুরুত্বর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। কিন্তু সম্প্রতি হাইকোর্টের এক রায়ে পাল্টে যেতে যাচ্ছে বহুদিন ধরে চলে আসা এই রীতি।

এবার স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে,ঠিক এমনই এক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে।

এতদিন প্রচলিত ছিলো, স্ত্রী বা প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে আদালত বলেন, এ বিষয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো অস্তিত্ব নেই।

২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলে ন্যস্ত থাকায় স্ত্রী অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়।

১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে নারীর ক্ষেত্রে ওই সাজা বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে ঠেলে দেওয়া হয় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর। সেক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিলের ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্তে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। তাদের দাবি, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই রিট করা হয়েছিল।

সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, আর্থিক সক্ষমতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রলোভন থেকে বহু পুরুষ একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহার করার ঝুঁকি থাকে। ফলে সমাজে অসাম্য ও পারিবারিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তারা।

এদিকে বিষয়টি এখন আপিল বিভাগে গেলে তা নজরকাড়া আলোচনার জন্ম দেবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।