০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছি আমি: আসিফ নজরুল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৯ Time View

বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন তিনি নিজেই—এমন দাবি করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং কার বিরুদ্ধে হয়েছে—আমার বিরুদ্ধে হয়েছে। প্রথম চার মাসেই আমাকে টার্গেট করে চারটি ডেডিকেটেড ভিডিও বানানো হয়েছে।”

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এসব কথা বলেন তিনি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন উপদেষ্টা বলেন,“আমি ১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, আর ওভারনাইট আমি ভারতের দালাল হয়ে গেলাম। বলা হলো—আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে, পরিবার অলরেডি আমেরিকায় চলে গেছে। ছয় মাস আগে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম—কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। যারা এই মিথ্যা, এই বদমাইশি প্রচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলেছে? এর চেয়ে বড় সাইবার বুলিং আর কী হতে পারে?”

তিনি বলেন, সততাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার, অথচ সেই মানুষটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চরিত্রহননের ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে।

জুলাইয়ের মামলায় জামিন প্রসঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে আসিফ নজরুল বলেন,“জুলাইয়ের ঘটনার মামলাগুলোতে যে জামিন হয়েছে, তার ৯০ শতাংশই হাইকোর্ট থেকে। হাইকোর্টে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ভুল থাকলে সেটা বিচারকের দায়। অনেক বিচারকই ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও প্রধান বিচারপতির। আইনমন্ত্রী বা আইন উপদেষ্টা এখানে কিছু করতে পারেন না।”

তিনি প্রশ্ন রাখেন,“হাইকোর্টের বিচারক যদি অন্যায়ভাবে জামিন দেন, আমি কি তাকে সরাতে পারি? তাহলে কেন সব দায় আমার ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে? যারা সত্যিকার অর্থে দায়ী, তাদের প্রশ্ন করা হয় না কেন?”

সাইবার আক্রমণের পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন,

“এই দায় আমার ওপর দেওয়া হয় দুই কারণে। এক—ভিউ বাড়ে, ব্যবসা ভালো হয়, মনিটাইজেশন হয়। আসিফ নজরুলকে গালি দিলে কিছু টাকা আসে। দুই—একটা বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা আছে। আমাকে দুর্বল করলে সেই এজেন্ডা বাস্তবায়ন সহজ হয়।”

সবশেষে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন,

“ইসলামে সবচেয়ে বড় গুণগুলোর একটি আত্মসমালোচনা। আসুন, আমরা সবাই আত্মসমালোচনা করি। একে অপরের মতামত, সীমাবদ্ধতা ও শক্তি বোঝার চেষ্টা করি। তবেই ধীরে ধীরে আমরা সংস্কারের পথে এগোতে পারবো।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ কলেজসমূহের অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় মহানগর ল কলেজের মানববন্ধন

১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছি আমি: আসিফ নজরুল

Update Time : ১১:০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন তিনি নিজেই—এমন দাবি করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং কার বিরুদ্ধে হয়েছে—আমার বিরুদ্ধে হয়েছে। প্রথম চার মাসেই আমাকে টার্গেট করে চারটি ডেডিকেটেড ভিডিও বানানো হয়েছে।”

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এসব কথা বলেন তিনি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন উপদেষ্টা বলেন,“আমি ১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, আর ওভারনাইট আমি ভারতের দালাল হয়ে গেলাম। বলা হলো—আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে, পরিবার অলরেডি আমেরিকায় চলে গেছে। ছয় মাস আগে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম—কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। যারা এই মিথ্যা, এই বদমাইশি প্রচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলেছে? এর চেয়ে বড় সাইবার বুলিং আর কী হতে পারে?”

তিনি বলেন, সততাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার, অথচ সেই মানুষটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চরিত্রহননের ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে।

জুলাইয়ের মামলায় জামিন প্রসঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে আসিফ নজরুল বলেন,“জুলাইয়ের ঘটনার মামলাগুলোতে যে জামিন হয়েছে, তার ৯০ শতাংশই হাইকোর্ট থেকে। হাইকোর্টে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ভুল থাকলে সেটা বিচারকের দায়। অনেক বিচারকই ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও প্রধান বিচারপতির। আইনমন্ত্রী বা আইন উপদেষ্টা এখানে কিছু করতে পারেন না।”

তিনি প্রশ্ন রাখেন,“হাইকোর্টের বিচারক যদি অন্যায়ভাবে জামিন দেন, আমি কি তাকে সরাতে পারি? তাহলে কেন সব দায় আমার ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে? যারা সত্যিকার অর্থে দায়ী, তাদের প্রশ্ন করা হয় না কেন?”

সাইবার আক্রমণের পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন,

“এই দায় আমার ওপর দেওয়া হয় দুই কারণে। এক—ভিউ বাড়ে, ব্যবসা ভালো হয়, মনিটাইজেশন হয়। আসিফ নজরুলকে গালি দিলে কিছু টাকা আসে। দুই—একটা বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা আছে। আমাকে দুর্বল করলে সেই এজেন্ডা বাস্তবায়ন সহজ হয়।”

সবশেষে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন,

“ইসলামে সবচেয়ে বড় গুণগুলোর একটি আত্মসমালোচনা। আসুন, আমরা সবাই আত্মসমালোচনা করি। একে অপরের মতামত, সীমাবদ্ধতা ও শক্তি বোঝার চেষ্টা করি। তবেই ধীরে ধীরে আমরা সংস্কারের পথে এগোতে পারবো।”